আনিসুর রহমান
দেশ ও জনগণের উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সরকার বরাদ্দ করে থাকেন বিপুল পরিমাণের অর্থ। এসব কাজের দায়িত্ব স্থানীয় কর্মকর্তাদের দিয়ে থাকেন। কিন্তু সরকার যে পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করে থাকেন সেভাবে কি কাজ সম্পূর্ণ হয়? সাধারণ জনগণের ভাষায় তা হচ্ছে না। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নে প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে সেতু নির্মাণ করলেও তা কাজে আসছে না। নির্মাণের বছরখানেকের মধ্যে বন্যাজনিত কারণে ভেঙে যায় সেতুটি। চার বছর পরও মেরামত করেনি এই ভাঙা সেতু। এতে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে গ্রামের হাজারো মানুষজনের। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণ কাঁচা সড়কের দুই গ্রামের মাঝে একটি খালের উপর ডেবে পড়ে আছে সেতুটি। স্থানীয়দের অভিযোগ রয়েছে, অনিয়মের মধ্য দিয়ে সেতু তৈরির ফলে নির্মাণের বছরখানেকের মধ্যে বন্যায় ভেঙে পড়ে। এরপর বছরের পর বছর গেলেও সেতুটি সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের ব্যবস্থা করেনি কেউ। জানা যায়, কাকৈরগড়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষের যাতায়াতের সুবিধার্থে ২০১৫-১৬ অর্থ বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অর্থায়নে ৬৫ লাখ ৮৯ হাজার ১০৬ টাকা ব্যয়ে গোদারিয়া হতে জয়নগর বাজার সড়কের গাঁওয়া খালের ওপর সেতুটি নির্মিত করা হয়েছিল। পত্র-পত্রিকা থেকে জানা যায়, সেতুটির পাশের মাটি সরে মাঝ বরাবর ডেবে পড়ে রয়েছে। সেতুর পাশ দিয়ে হেঁটে চলাচল করছেন লোকজন। হাটবাজারে বা উপজেলা শহরে যেতে হলে প্রায় ৮ কিলোমিটার ঘুরে চলাচল করতে হয়।
এখন এ পথ দিয়ে কষ্টে পায়ে হেঁটে চলাচল করতে পারলেও পানি এলেই নৌকা ছাড়া সম্ভব হয় না। দীর্ঘদিন পেরিয়ে গেলেও পুনরায় সেতুটি টিক না হওয়ায় ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে প্রায় ১৫টি গ্রামের মানুষকে। ওইসব গ্রামের বাসিন্দারা বেশির ভাগ কৃষক। এত টাকা বরাদ্দ করেও কেন জনসাধারণ ভোগান্তিতে থাকবে এর জবাব কে দিবে? সেতু নির্মাণ কাজ নিশ্চয় দক্ষ লোক দ্বারা করা হয়। তাহলে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার দিয়ে কাজ করেও কেন অকেজো সেতু?। নিশ্চয় দুর্নীতির কারণে এমনটি হয়েছে। এখনি উপযুক্ত সময় এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর। স্থানীয় এমপি-মন্ত্রীদের থেকে এর জবাবদিহিতা নিতে হবে সরকারকে। দুর্গাপুর উপজেলা কাকৈরগড়ার ছাত্রছাত্রীর, কৃষক এবং পুরো গ্রামবাসীর কথা চিন্তা করে যত দ্রুত সম্ভব উক্ত অকার্যকর সেতুটি কার্যকরে পরিণত করা হোক। এলাকাবাসীর দুর্ভোগে এগিয়ে আসুন।
নিউজটি আপডেট করেছেন : Dainik Janata
